নরসিংদীর শিবপুরে টেবিলে পড়ে ছিল একটি চিরকুট, আর কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল এক স্কুল শিক্ষকের দেহ|
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিবপুর উপজেলার কলেজগেইট স্কুলসংলগ্ন ভাড়াবাসা থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বিল্লাল হোসাইনের (৫০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে শিবপুর থানা পুলিশ|
নিহত বিল্লাল হোসাইন গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার গোসিংগা গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে| তিনি শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন| ২০১৬ সালে তিনি এ স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন|
নিহতের স্ত্রী রুমা বেগম জানান, তিনি তার মেয়ে মরিয়মকে বাসার নিকটে বিদ্যালয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে এসে দেখেন তাদের ঘরের দরজা বন্ধ| ডাকাডাকির পর দরজা না খোলায় তিনি ডাক চিৎকার করতে থাকেন| এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন| পরে তারা পুলিশে খবর দেয়|
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতের স্ত্রী রুমা বেগমের ডাক চিৎকারে পাড়া-প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়| পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মো. বিল্লাল হোসাইনকে দেখতে পায়|
শিবপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে| এ সময় কক্ষের টেবিল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়| মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন ˆতরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে|
আত্মহত্যার আগে মো. বিল্লাল হোসাইন কি লিখেছিলেন, সেটি প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্টরা|
শিবপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর উদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কষ্টকর| কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি| তবে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন|
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে| বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে| ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে|