নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় এক দিনের ব্যবধানে আবারও পানিতে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

নানার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে বেড়াতে এসে মামাতো বোনের সঙ্গে ভেলোয়ারচর বিলে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যায় তারা| এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ভেলুয়ারচর গ্রামের নুরুজ্জামান মিয়ার মেয়ে জান্নাতি (৭) এবং চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকার সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে লামিয়া আক্তার রিতা (৮)। তারা দুজনই দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামিয়া আক্তার রিতা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নানার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসে| শুক্রবার দুপুরে সে তার মামাতো বোন জান্নাতির সঙ্গে বাড়ির পাশের বিলে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে দুজনই গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

লামিয়া আক্তার রিতার স্বজন নূরজাহান জানান, চরসুবুদ্ধির আব্দুল্লাহপুর গ্রাম থেকে লামিয়া তার নানা মঙ্গল মিয়ার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আসছিলো। সকালে সে খেলাধুলা শেষে গোসল করতে যায়| পরে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়| লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়া বুঝে পেতে পুলিশের কাছে আবেদনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সুলতানা শিলা জানান, দুপুর ১টার দিকে দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল| পরীক্ষায় তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়নি|

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নদীতে গোসল করতে নেমে ওই দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে| খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে গেছে| আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দায় খালে গোসল করতে নেমে চার শিশুর মৃত্যু হয়। বিনা ময়নাতদন্তে লাশ হস্তান্তরের পর সন্ধ্যায় স্থানীয় ঈদগাহে একসঙ্গে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় তাদের।

নিহত শিশুরা হলেন, ওই গ্রামের শামীম মিয়ার মেয়ে তাবিয়া (১৩ ), রুবেল মিয়ার মেয়ে আয়েশা (৯), মো. রুবেলের মেয়ে জান্নাত (৮) এবং বিল্লাল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১০)। নিহত ৪ শিশুই স্থানীয় গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

টানা দুই দিনে ছয় শিশুর এমন করুণ মৃত্যু রায়পুরাজুড়ে গভীর শোকের আবহ ˆতরি করেছে। নদী ও জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।