সম্মানিত সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ, শুরুতেই আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার লেখার কোনো অংশে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে কষ্ট লাগে, তবে অনুগ্রহ করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এই লেখাটি সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত এবং সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই লিখছি।
আমি ২০০৫ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। চাঁদপুরের সন্তান হিসেবে সবসময় চেষ্টা করেছি পরিচ্ছন্ন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করতে। সাংবাদিকতা আমার কাছে কেবল একটি পেশা নয়, এটি আমার ভালোবাসা ও নেশা। চাঁদপুরের সিনিয়র
সাংবাদিকদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনাদের অনেকেই জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি, আবার অনেকে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। তবে একটি বিষয়ে বিনীতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)-এর উদ্যোগে চাঁদপুর প্রেসক্লাবে প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ্য করেছি, এসব প্রশিক্ষণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সিনিয়র সাংবাদিকরাই অংশগ্রহণ করেন। নিঃসন্দেহে আপনারা বহু প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, অসংখ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং অনেকেই শতাধিক প্রশিক্ষণের সনদও পেয়েছেন। কিন্তু আজ আমার প্রশ্ন- এখন কি নতুনদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার সময় আসেনি? চাঁদপুরের প্রত্যন্ত উপজেলা ও মফস্বলে কর্মরত অনেক সংবাদকর্মী এখনও মানসম্মত প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। তাঁদের অনেকেই সংবাদ লেখার মৌলিক নিয়ম, তথ্য যাচাই, সংবাদ উপস্থাপনা, সাক্ষাৎকার গ্রহণ কিংবা সাংবাদিকতার নৈতিকতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ পাননি। অথচ একটু সুযোগ পেলে তাঁরাও দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
আমার বিনীত প্রস্তাব, ভবিষ্যতে পিআইবির প্রশিক্ষণে প্রতিটি উপজেলা থেকে অন্তত চার-পাঁচজন করে মূলধারার সংবাদকর্মীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে চাঁদপুর প্রেসক্লব ও পিআইবির উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।
আজ আপনারা যে অবস্থানে আছেন, সেখানে পৌঁছাতে আপনাদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও পরিশ্রম রয়েছে। এখন সেই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার সময়। দক্ষ সাংবাদিক তৈরির মধ্য দিয়েই আপনাদের অবদান আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আমরা চাই, আগামী দিনের সাংবাদিকরা আপনাদের আদর্শ, শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে এগিয়ে যাক। একদিন আপনারা হয়তো সক্রিয় দায়িত্বে থাকবেন না, কিন্তু আপনাদের হাতে গড়ে ওঠা সাংবাদিকরাই আপনাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে।
সবশেষে আবারও বলছি, এটি কারও সমালোচনা নয়- বরং চাঁদপুরের সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একজন সহকর্মীর আন্তরিক আবেদন। সবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
লায়ন মোঃ সাইফুল ইসলাম রণি, সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক