নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন রায়পুরা প্রেসক্লাবে রাতের আঁধারে তাণ্ডব চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুরের পাশাপাশি মূল্যবান বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে তারা। এ ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ক্লাবে গিয়ে এমন লণ্ডভণ্ড অবস্থা দেখতে পান রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক রফিক। পরে তিনি অন্যান্য সাংবাদিক ও রায়পুরা থানাকে বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই নিয়ে চারবার চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর পৃথকভাবে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।

চার দফা চুরি ও ভাঙচুরে প্রেসক্লাব থেকে একটি টেলিভিশন, পানির মোটর, সাতটি বৈদ্যুতিক পাখা, দুটি কম্পিউটার, একটি স্পিকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। এছাড়া ক্লাবের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নষ্ট করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা ক্ষতিগ্রস্ত প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হক রফিক বলেন, “সকালে ক্লাব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যে লোকজন নিয়ে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করি। তখন দেখি পুরো ক্লাব লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে। কাঁচের জিনিসপত্রসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সাংবাদিক ও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে সবাই এসে ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র দেখেন।”

রায়পুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. মোস্তফা খান বলেন, “রায়পুরা প্রেসক্লাব আমাদের সাংবাদিক সমাজের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক। প্রায় ৪৩ বছরের ইতিহাস বহনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক চুরি, ভাঙচুর ও অবহেলার কারণে আজ চরম সংকটের মুখে। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়, রায়পুরার সাংবাদিক সমাজের ইতিহাস ও আবেগের ওপরও আঘাত। আমরা দ্রুত প্রেসক্লাবের সংস্কার, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

ঘটনার পর রায়পুরার সাংবাদিক সমাজ গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা অবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে প্রেসক্লাবের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।