অজয় সাহা, রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের উদ্ভাবক আবুল কালাম সাধারণ বালু থেকে মূল্যবান ধাতব ও খনিজ কণা পৃথকীকরণের একটি সাশ্রয়ী পদ্ধতি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন। সম্প্রতি তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতি পরিদর্শন করেছেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।

উদ্ভাবক আবুল কালাম জানান, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তিনি এমন একটি পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট ধরনের বালু থেকে লোহা, ম্যাগনেটাইট, ইলমেনাইট, টাইটানিয়ামসমৃদ্ধ খনিজ, জিরকনসহ বিভিন্ন ভারী খনিজ কণা পৃথক করা সম্ভব হতে পারে।

তাঁর দাবি, পদ্ধতিটিতে সহজলভ্য উপকরণ ব্যবহার করে চৌম্বকীয় ও ঘনত্বভিত্তিক পৃথকীকরণ প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়। প্রচলিত কিছু পদ্ধতির তুলনায় এটি কম ব্যয়ে এবং তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট গবেষণায় বাংলাদেশের উপকূলীয় ও নদী অববাহিকার কিছু বালুতে ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, রুটাইল, জিরকন ও গারনেটের মতো ভারী খনিজের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। এসব খনিজ শিল্প, সিরামিক, রং, ধাতু ও বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর খাতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয়দের মতে, আবুল কালামের উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

তবে উদ্ভাবকের দাবির কার্যকারিতা, বালু থেকে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ ও কী ধরনের খনিজ পৃথক করা সম্ভব এবং পদ্ধতিটির অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা—এসব বিষয়ে পরীক্ষাগারভিত্তিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্ভাবনটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত হলে দেশীয় প্রযুক্তিতে বালু থেকে মূল্যবান খনিজ পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। পাশাপাশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতা পেলে উদ্ভাবনটির আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্ভব হতে পারে।