• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৭ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতি অব্যাহত রাখা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান- এলজিআরডি মন্ত্রীর জঙ্গলের গল্পে আফরিনের ‘পালালে প্রেম হয়’ নতুন পরিচয়ে পর্দায় আদ্রিতা রায়পুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ ও দায়িত্ব হস্তান্তর স্বপ্নপূরণের পথে রাইসা, অর্জন ‘ফেস অব টুমরো স্বপ্ন থেকে র‍্যাম্পে- নতুনদের পাশে বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক নওগাঁ বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তির রায়পুরাকে বঞ্চিত করে কেউ সংসদে বসে বেশি টাকা নিতে পারবে না : এমপি আশরাফ পরিবারের সঙ্গেই পালন করবেন জন্মদিন শান্তা ইসলাম র‍্যাম্প মডেল থেকে অভিনয় ব্যস্ত সাবরিনা সাবরিন

নরসিংদীতে নিলাম ছাড়াই সরকারি স্কুল ভবন ভাঙা ও মালামাল বিক্রির অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি :
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

নরসিংদীতে সরকারি বিধি-বিধান, নিলাম প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনও বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার শীলমান্দী এলাকায় অবস্থিত ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি সরকারি অর্থায়নে নির্মিত নতুন একাডেমিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তরের পর বিদ্যালয়ের পুরনো ২টি ভবনের মালামাল বিক্রি নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের একটি পুরোনো ভবন কোনো ধরনের সরকারি নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়াই এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়। পরে ভবনটি ভেঙে টিন, লোহার গ্রিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা দিলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এবং এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর তোপের মুখে কেনা মালামাল ফেলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক বা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ভবন ভাঙা ও মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া অতীতেও বিদ্যালয়ের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষিকা জয় শ্রী সাহা। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা হয়েছে। মালামাল বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসাইন জানান, বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার জন্য কোনো মৌখিক বা লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসমা জাহান সরকার বলেন, বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ বা পরিত্যক্ত ভবনের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে মালামাল ক্রয়কারী হিসেবে অভিযুক্ত গনি মিয়া গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সরকারি সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের, সেখানে অনুমোদন ছাড়া ভবন ভাঙা ও মালামাল বিক্রির অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে জবাবদিহিতা ও তদারকি নিয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

৬ responses to “নরসিংদীতে নিলাম ছাড়াই সরকারি স্কুল ভবন ভাঙা ও মালামাল বিক্রির অভিযোগ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার