• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতি অব্যাহত রাখা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান- এলজিআরডি মন্ত্রীর জঙ্গলের গল্পে আফরিনের ‘পালালে প্রেম হয়’ নতুন পরিচয়ে পর্দায় আদ্রিতা রায়পুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ ও দায়িত্ব হস্তান্তর স্বপ্নপূরণের পথে রাইসা, অর্জন ‘ফেস অব টুমরো স্বপ্ন থেকে র‍্যাম্পে- নতুনদের পাশে বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক নওগাঁ বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তির রায়পুরাকে বঞ্চিত করে কেউ সংসদে বসে বেশি টাকা নিতে পারবে না : এমপি আশরাফ পরিবারের সঙ্গেই পালন করবেন জন্মদিন শান্তা ইসলাম র‍্যাম্প মডেল থেকে অভিনয় ব্যস্ত সাবরিনা সাবরিন

ভৈরবে অসহায় রোগীর পাশে গরীবের বন্ধু খ্যাত ডা. মিজানুর রহমান কবির

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

যিনি নীরবে-নিভৃতে, প্রচারের আড়ালে থেকে প্রতিনিয়ত অসহায় ও সামর্থ্যহীন রোগীদের পাশে দাঁড়ান, তিনি ভৈরবের অতি সুপরিচিত ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন গরীবের বন্ধু খ্যাত ডাক্তার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির।

সম্প্রতি এক দরিদ্র ও অসহায় রোগীর চিকিৎসায় তাঁর বাড়িয়ে দেওয়া মানবিক হাত ভৈরব জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

ঘটনাটি শেয়ার করে ভৈরবের স্থানীয় সামাজিক কর্মী রাসেল জানান, বেশ কিছুদিন আগে জটিল একটি সমস্যা নিয়ে ভৈরবের একজন অত্যন্ত দরিদ্র ও সামর্থ্যহীন রোগী চন্ডিবের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বেশ কিছু ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু এতো টাকা ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক সামর্থ্য ওই অসহায় রোগীর ছিল না। কোনো উপায় না পেয়ে নিরুপায় রোগী সামাজিক কর্মী রাসেলের সাথে যোগাযোগ করেন।

রাসেল তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গরীবের বন্ধু খ্যাত ডাক্তার মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির-কে ফোনে জানান। ফোনের ওপাশ থেকে ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির যে উদারতা দেখান, তা সত্যিই বিরল। তিনি রাসেলকে বলেন- “রাসেল, তোমরা তো সামাজিক কাজ করো। এই ভালো কাজে মাঝেমধ্যে আমাদেরও তোমাদের পাশে রেখো। কোনো সমস্যা নেই, রোগীকে এখনই আমার চেম্বারে পাঠিয়ে দাও। পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যাবতীয় যা চিকিৎসা লাগে, আমি করে দিচ্ছি।” পরবর্তীতে রোগীকে ডাক্তার মিজানুর রহমান কবিরের চেম্বারে পাঠানো হলে, তিনি কোনো ফি ছাড়াই রোগীকে দেখেন।

শুধু তাই নয়, রোগীর প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। মানবিকতার এখানেই শেষ নয়। পরদিন ডাক্তার মিজানুর রহমান কবির নিজে সামাজিক কর্মী রাসেলকে ফোন করে বলেন- “রাসেল, এইরকম দরিদ্র, অসহায় ও সামর্থ্যহীন কোনো রোগী যদি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারে, তবে নিঃসংকোচে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও। কোনো সমস্যা নাই, আমি সাধ্যমতো ফ্রিতে চিকিৎসা করে দিবো।
” ডা. কবিরের এমন নিঃস্বার্থ ও হৃদয়স্পর্শী কথা শুনে তাঁর প্রতি ভৈরববাসীর সম্মান ও ভালোবাসা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমান সময়ে যেখানে চিকিৎসা সেবা বাণিজ্যিকীকরণের অভিযোগে বিদ্ধ, সেখানে ডাক্তার মিজানুর রহমান কবিরের মতো মানবিক চিকিৎসকেরা সমাজের জন্য এক একটি আলোকবর্তিকা।

এব্যাপারে ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি মানব সেবার অঙ্গীকার নিয়ে একজন চিকিৎসক হয়েছি। শুধু অর্থের বিনিময়েই নয়, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার মাঝে যে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়, অন্য কোনো কাজে ততটা শান্তি পাওয়া যায় না। আমি সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।”

ভৈরবের সর্বস্তরের মানুষ এই গুণী ও মানবিক চিকিৎসকের সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

১৮ responses to “ভৈরবে অসহায় রোগীর পাশে গরীবের বন্ধু খ্যাত ডা. মিজানুর রহমান কবির”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার