• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৪ অপরাহ্ন
  • |
  • English Version
  • |
শিরোনাম :
দুর্গাপূজায় ধর্মীয় সম্প্রীতি অব্যাহত রাখা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আহ্বান- এলজিআরডি মন্ত্রীর জঙ্গলের গল্পে আফরিনের ‘পালালে প্রেম হয়’ নতুন পরিচয়ে পর্দায় আদ্রিতা রায়পুরা উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটির শপথ ও দায়িত্ব হস্তান্তর স্বপ্নপূরণের পথে রাইসা, অর্জন ‘ফেস অব টুমরো স্বপ্ন থেকে র‍্যাম্পে- নতুনদের পাশে বাংলাদেশ ফ্যাশন রানওয়ে উইক নওগাঁ বিআরটিএতে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে ভোগান্তির রায়পুরাকে বঞ্চিত করে কেউ সংসদে বসে বেশি টাকা নিতে পারবে না : এমপি আশরাফ পরিবারের সঙ্গেই পালন করবেন জন্মদিন শান্তা ইসলাম র‍্যাম্প মডেল থেকে অভিনয় ব্যস্ত সাবরিনা সাবরিন

রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৩

এম আজিজুল ইসলাম, রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি:
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নিখোঁজ থাকার দুই দিন পর আব্দুল লতিফ (৩৫) নামে এক প্রবাসফেরত ব্যক্তির মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে। এখনও বুলবুল নামে আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল লতিফ নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। তিনি ছয় মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেন।স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি আলাল মুন্সির সমর্থক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির অনুসারীদের মধ্যে গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর থেকেই আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে গোবিনাথপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

স্থানীয়দের ধারণা, সংঘর্ষ চলাকালে আব্দুল লতিফকে হত্যার পর তার মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এলাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে তারা স্পিডবোটযোগে নিলক্ষা ইউনিয়নে প্রবেশ করে। এ সময় ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ভোর থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নাজিম উদ্দিনের সমর্থক অনিক (২০) নিহত হন। সংঘর্ষের পর থেকেই আলাল মুন্সির সমর্থক বুলবুল, কাউছার মিয়া ও আব্দুল লতিফ নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার একদিন পর বুধবার দুপুরে নরসিংদীর মাধবদীর জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে আজ বৃহস্পতিবার গোবিনাথপুর এলাকা থেকে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় এখনও বুলবুল নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গোবিনাথপুরে রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনিক হত্যার ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

৯ responses to “রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে ৩”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ক্যালেন্ডার