নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় সরকারি স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত বিতরণ না করা, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ, প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা গোপন বা অতিরঞ্জিত করে বরাদ্দ গ্রহণ এবং বিতরণে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করেছেন অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
এ অভিযোগের বিষয়ে সোমবার উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষিপুর ৫০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে না। কোথাও কোথাও নিম্নমানের কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের কাছাকাছি খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ ও বিতরণের হিসাবেও নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন স্থানীয়রা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ করে লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মনোহরাবাদ (খামার) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে শিক্ষার্থীদের শুধু রুটি দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রুটির সঙ্গে কলা, ডিম ও দুধ সরবরাহ করার কথা থাকলেও তা দেওয়া হচ্ছে না।
একাধিক অভিভাবক বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর তদারকির অভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে একই ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে।
এ বিষয়ে লক্ষিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজা আক্তার বলেন, “কোরবানি ঈদের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় শুধু রুটি সরবরাহ করা হয়েছে। কলা, ডিম কিংবা দুধ নিয়মিত দেওয়া হয়নি। এমনকি গত ১৬ ও ২৩ জুন কোনো খাদ্যসামগ্রীই সরবরাহ করা হয়নি। বিষয়গুলো আমি বিদ্যালয়ের রেজিস্টারে লিখে রেখেছি।”
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে সাব-ডিলার সাত্তার, কাজল ও সোহাগের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, বিল না পাওয়ার কারণেই নিয়মিত সরবরাহ দিতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রায়পুরা উপজেলার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মূল ডিলার আওলাদ মোল্লার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। আগামীকাল সংশ্লিষ্টদের চালান নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। চালান যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেদিন যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে তা রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে এবং সেই অনুযায়ী বিলে স্বাক্ষর করতে। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অনিয়ম উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারেরও আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রাধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. গোলাপ মিয়া, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. চান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. নুর মোহাম্মদ, রাধানগর ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. মামুন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. মোরাদ হোসেন শিবলু, প্রচার সম্পাদক ডা. মো. হোসেন আলী, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রমজান আলী, রাধানগর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি মোছা. জিমা আক্তার, মো. কাজল মিয়া এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা হাজী মো. আবু কাউছারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
https://shorturl.fm/orDDA
https://shorturl.fm/PVYaJ
https://shorturl.fm/60T2M
https://shorturl.fm/3VKbk
https://shorturl.fm/p730T
https://shorturl.fm/MC3RA
https://shorturl.fm/AixcG
https://shorturl.fm/ObrVE
https://shorturl.fm/A8mQh
https://shorturl.fm/ciy12
https://shorturl.fm/DF73z
https://shorturl.fm/ajQ8D
https://shorturl.fm/1E988