নরসিংদীর রায়পুরায় একই পরিবারের ছয়জন প্রতিবন্ধী সদস্যকে নিয়ে জরাজীর্ণ টিনের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বৃদ্ধা হারেছা বেগম (৭০) অবশেষে পেলেন নতুন একটি ঘর।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রায়পুরা উপজেলা সেচ্ছাসেবী ফোরামের উদ্যোগে নতুন ঘর নির্মাণ করে তা পরিবারটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পূবেরচর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে রায়পুরা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো মাসুদ রানা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেড এইচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শরিয়তপুর প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আসাদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান সরকার, ব্রাক বাংকের ভৈরব শাখার এভিপি জিয়াউল হক, মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দুলাল সিং, রায়পুরা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি আতাউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর সেচ্ছাসেবী আতাউর রহমান, জিয়াউল হক, মোঃ আবু তাহের, সুলাইমান কাদের, ইমরান হোসেন, মমতাজ মহল, সজল মাহমুদ, ওয়াহিদ খন্দকার, রাসেল প্রদান, মোস্তাফিজুর রহমান, রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া, কামরুজ্জামানসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের অর্থবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মাহবুব।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে হারেছা বেগমের স্বামী ফজর আলী মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বর্তমানে তার সঙ্গে বসবাস করছেন জন্মান্ধ মেয়ে সুরাইয়া বেগম (৪৫), শারীরিক প্রতিবন্ধী জামাতা মরম আলী (৫৬) এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তিন নাতি-নাতনি-মদিনা পাখি (৯), আব্দুর শুক্কুর (৮) ও তাসনিম (৭)। পরিবারের ছয় সদস্যই কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার।
হারেছা বেগম বলেন, “আমি চোখে দেখি না, বয়সও হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় ভাঙা ঘরে খুব কষ্টে থাকতে হতো। নতুন ঘর পেয়ে এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন। তাদের সংবাদ প্রকাশের কারণেই আজ আমাদের জীবনে এই পরিবর্তন এসেছে।”
তার মেয়ে সুরাইয়া বেগম বলেন, সংসারে কোনো স্থায়ী আয় নেই। মা, স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছিল। সংবাদ প্রকাশের পর যেভাবে সবাই এগিয়ে এসেছেন, তা আমাদের নতুন করে বাঁচার আশা দেখিয়েছে। যারা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
স্থানীয়দের মতে, নতুন ঘর পাওয়ায় পরিবারটির দীর্ঘদিনের একটি বড় কষ্ট দূর হয়েছে। এখন সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, চিকিৎসাসেবা ও টেকসই আয়ের ব্যবস্থা করা গেলে পরিবারটি আরও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে।
রায়পুরা স্বেচ্ছাসেবী ফোরামের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাম বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। সবার সহযোগিতায় এক লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে দ্রুত একটি বসবাসযোগ্য ঘর নির্মাণ করে পরিবারটির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারটির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
https://shorturl.fm/BmHlv
https://shorturl.fm/eQN33
https://shorturl.fm/Tskkt
https://shorturl.fm/mkHmH
https://shorturl.fm/o88yh
https://shorturl.fm/spu5L
https://shorturl.fm/7iH0S
https://shorturl.fm/AeD4y
https://shorturl.fm/vQjA1